আমার আপা পারুল

গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

মো. কামরুল হাসান খান
বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা। পারুল। আমার আপা। সংস্কৃতির মানুষেরা তাঁকে চেনেন সেলিম আল দীনের জীবনসঙ্গী মেহেরুন্নেসা সেলিম হিসেবে। আমাদের ছয় ভাইবোনের মাঝে আপা সবার বড়; আমি পঞ্চম। আমার স্মৃতি হাতরে আপার সবচেয়ে পুরানো যে স্মৃতি খুঁজে পাই, তখন আপা করটিয়া সাদৎ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক সম্মানের ছাত্রী। সে স্মৃতির সাথে পাশাপাশি ভেসে আসে মুক্তিযুদ্ধের সময়। অতঃপর স্বাধীন দেশে আপাসহ বড় তিন ভাই-বোনের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থে ঢাকা গমন। আর এর কিছুকাল পরে আর্থিক সঙ্কটের কারণে পিতার কর্মস্থল টাঙ্গাইলের করটিয়া থেকে মাসহ আমাদের বাকি ভাইবোনদের বাপ-দাদার ভিটা মানিকগঞ্জে গ্রামের বাড়ি তালুকনগরে গমন।

আপার ডাক নামের শেষ দুই অক্ষর আর আমার নামের শেষ দুই অক্ষর এক। সেজন্য কি না জানি না আপার সাথে আমার সবচেয়ে বেশি কথা কাটাকাটি-তর্কাতর্কি আবার সবচেয়ে বেশি মিলও। আপার অবর্তমানে অনেক বিষয়ে বিশেষত শিল্প-সাহিত্যের আলোচনায় শেয়ার করার কাউকে খুঁজে পাই না। তখন খুব নিঃসঙ্গ লাগে। আপার অনেক ভালোলাগার বিষয় আমারও ভালোলাগার বিষয়। আপার গাছ-পালা-বাগান পছন্দের; আমারও। আপা সাহিত্য পড়তে পছন্দ করতো; আমিও সাহিত্য পড়তে অল্প হলেও পছন্দ করি। আপা গল্প করতে ভালোবাসতো; আমিও গল্প-আড্ডা পছন্দ করি। এই যে ভালো লাগা তা হয়তো ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। সে খোঁজ জানতে আজ পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি- আমি যে গ্রাম থিয়েটারের সাথে জড়িত তার পটভূমি আর পারুলআপাকে নিয়ে লেখা এ স্মৃতি পরস্পর হাত ধরে গড়ে উঠেছে। পাশাপাশিভাবে চলে আসবে সেলিম আল দীনের প্রসঙ্গও। তাই হয়তো অযাচিতভাবে আমার অনেক কথাই চলে আসবে লেখাতে। পাঠক তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন তা প্রত্যাশা করি।

আপার বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাবেন গ্রীষ্মের ছুটিতে। আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন। সেজন্য আব্বা আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রুমের বাসায় রেখে গেলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি শুরু হয় না; আপা-দুলাভাই কর্মস্থলে চলে যান ফলে বাসায় আমাকে একা একা থাকতে হয়। আমার নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি থেকে বই এনে দিলেন দুলাভাই- চেখভের গল্প। সেই আমার প্রথম পাঠ্যপুস্তকের বাইরে কোন বই পড়া। প্রথম পড়া কিন্তু চমকিত হই না; এতে নিজেদের জীবনই দেখি তাই। দুলাভাইয়ের বইপুস্তকের মাঝে খুঁজে পাই ‘থিয়েটার’ পত্রিকা। নাটকের নাটকীয়তা আমাকে টানে। এখনও মনে আছে, আবদুল্লাহ আল মামুনের ক্রসরোডে ক্রস ফায়ার পড়ে খুব মজা লাগলো। একে একে থিয়েটার পত্রিকা থেকে নাটক পড়তে লাগলাম। পরে ছুটিতে ফেনীতে গিয়ে নতুন ভূপ্রকৃতি; দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ নয়, নতুন খাবার; খোলা ঝালি পিঠা, কোড়ানো নারিকেল আর ঝোলা গুড় (রাব), পোকাওয়ালা আম- এ সবের সাথে পরিচিতি ঘটলো।

বিয়ের পর থেকে আপা শ্বশুরবাড়ির জন্য নিবেদিত প্রাণ। আমরা যে যার মতো লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। এ সময় ঢাকা থিয়েটার শকুন্তলা নাটক নিয়ে টাঙ্গাইল গেলো। আমি প্রথম ঢাকার কোন দলের নাটক দেখলাম। এভাবে মেট্রিক-ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ভর্তি হলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদালয়ে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আর গ্রাম থিয়েটারের শুরু একই সময়ে। তালুকনগর থিয়েটারের আমি এক প্রায় বহিরাগতকর্মী। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরে আমি স্বতন্ত্র ধারার লেখক শিবিরের কর্মী। থাকি হলে। সন্ধ্যেবেলা প্রান্তিক যাই, আড্ডা-চা-নাস্তা খেতে। কাছেই আপার বাসা। সবদিন যাওয়া হয় না। গেলে সুস্বাদু নাস্তা মেলে, কোন কোন দিন ভালো খাবার থাকলে রাতের খাবারও। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এরশাদ ভ্যাকেশন’ হলে হল ছাড়তে হয়। দুলাভাই একা থাকতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বাড়ি না গিয়ে আমিও থেকে যাই আপার বাসায়।

আপা সকালে উঠে রান্না করেন। তারপর স্নান সেরে স্কুলে। বিকেলে ফিরে কাপড় পাল্টিয়ে সোজা বাগানে। বাগানে মাটি কোপানো, নতুন গাছের বীজ/চারা বোনা, লতানো গাছ বাইয়ে দেয়া, হেলে পড়া গাছে ঠেকনা দেয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, পানি দেয়া, ফুল, শাক-সবজি তোলা। রাতে রান্না সেরে পেপার, বইপত্র পড়া, দুলাভাইয়ের লেখা ফ্রেস করা, পরীক্ষার খাতা দেখা, এই ছিল আপার জীবনচিত্র।

আপার রান্নার হাত ছিল চমৎকার। মোগলাই নয় দেশীয় খাবার রাঁধতেন ভাত-মাছ-শাক-সবজি-গোস্ত। আপার হাতের পায়েস ছিল অসাধারণ। আপা ইদে পায়েস রান্না করলে তাঁর স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু পায়েস খেতে আপার বাসায় আসতো। সেই পায়েসের ধারাবাহিকতা কিছুটা আমাদের বাসায় বয়ে চলেছে। সেলিম আল দীন যেহেতু ভোজনরসিক (পেটুক নয়) ছিলেন সেহেতু আপাও অন্যের কাছে শোনা বিভিন্ন অঞ্চলের রান্নার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন।

আপার এক সময় নেশা ছিল সোয়েটার বোনার। আমাদের ভাই-বোন, তাদের সন্তান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন থেকে শুরু করে কতজনকে যে সোয়েটার বুনে দিয়েছেন তার হিসাব নাই। প্রতিটি সোয়েটারের ডিজাইন ভিন্নভিন্ন। হাতাওয়ালা, হাতাবিহীন। একরঙের, একাধিক রঙের। শুধু সোয়েটার নয়, উলের পাজামা, টুপি, মাফলার, মোজা, হাতমোজা, ফ্রক, ব্রাউস কী না বুনেছেন?

স্কুলে খুব যত্ন নিয়ে পড়াতেন ছাত্র-ছাত্রীদের। কখনো বকা-ঝকা করতেন না, আর মারার তো প্রশ্নই ওঠেনা। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতেন প্রতিটি লাইন পড়ে পড়ে। সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক। কোন রকম দলাদলির আগে পিছে নেই। ঠিক সময়ে ক্লাসে ঢোকা। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষক।

আমি ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে ঢাকায় চলে আসি। এরপর ঊনআশি সালে চাকরিতে যোগ দিলে ঢাকার বাইরের জীবন শুরু হয়। আর একটু একটু করে আপা ও গ্রাম থিয়েটারের সাথে যোগাযোগ কমতে থাকে। অন্বিতার অসুস্থতার পূর্ব পর্যন্ত তা বছরে দুই ইদে ভাই-বোনদের দেখাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

আপার জীবনের প্রধান ব্রত ছিল সেলিম আল দীনকে বড় লেখক করে তোলা। সে জন্য নিজের জীবনের সুখ-শান্তি সব কিছু তুচ্ছ করেছেন। আপা নিজেও ছাত্র জীবনে লিখতেন। তবে তা খুবই কম। পরে আর লেখেননি। আবার লেখা শুরু করেছিলেন দুলাভাইয়ের অবর্তমানে। আপা যেহেতু বাইরে যেতেন না সেহেতু আমাদের বলতেন সেলিম আল দীন/ঢাকা থিয়েটার/গ্রাম থিয়েটার বিষয়ে যে কোন পত্র-পত্রিকা পেলে তা সংগ্রহ করা ও তা আপাকে পৌঁছানো। আপা আসলে সেলিম আল দীন, ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার এমন কী নাট্যতত্ত্ব বিভাগকে আলাদা করে দেখতেন না। সবখানে তিনি সেলিম আল দীনকে দেখতে পেতেন।

সেলিম আল দীন মিডিয়াতে জনপ্রিয় মুখ হোন এটার চেয়ে অনেক বেশি চাইতেন অজনপ্রিয় কিন্তু বড় লেখক হোন। মিডিয়াতে লিখলে টাকা পাওয়া যাবে- যা স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে; সে স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি কোন আগ্রহ ছিল না আপার। মিডিয়ার জন্য হালকা লেখা নাটক মিডিয়াতে প্রচারিত হলে তা দেখতে আগ্রহী হতেন না।

আত্মীয়-অনাত্মীয় অনেকে সেলিম আল দীনকে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করতে তৎপর হতেন। এটা টের পেলে নানাভাবে সতর্ক করতেন। কিন্তু সেলিম আল দীন অনেক ক্ষেত্রে তা মেনে নিতেন না। কিন্তু কার্যসিদ্ধি হলে তারা কেটে পড়তো তখন টের পেয়ে ভুল স্বীকার করতেন কিন্তু তারপরও একই ভুল করতেন। মৃত্যুর পূর্বে অসুস্থ হয়েও আপার কাছে একই ভুল স্বীকার করে গেছেন সেলিম আল দীন।

সেলিম আল দীন নিজের লেখার/কাজের ঘোরের মধ্যে থাকতেন। ঢাকার কিম্বা জাহাঙ্গীরনগরের অনেককে কখনো কখনো দাওয়াত করে আসতেন বাসায় খাওয়ার জন্য কিন্তু অনেক সময় তা বাসায় জানাতে ভুলে যেতেন। অতিথি এসে হাজির হলে তাদের দেখে মনে পড়লে বলতেন দাওয়াতের কথা। তখন ফ্রিজ খুলে যা কিছু হাতের কাছে আছে তা রেঁধে-বেড়ে অতিথি আপ্যায়ন সামলাতে হয়েছে অনেক দিন আপাকে।

নিঃসন্তান আপা অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে মাতৃস্নেহে উজার করে দিলেও সবচেয়ে বেশি যাকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন সে আমার ছোট বোন বিলকিস-ছালাম দম্পতির বড় মেয়ে অন্বিতা। অবশ্য তার আগে বেলপালসিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে মণিপুরি যুবক অরুণ সিনহার সাথে পরিচয়। অরুণ মাতৃহীন এক যুবক যে তার মাকে হারিয়েছিল অনেক আগে। অরুণ বেলপালসি পরবর্তী ফিজিওথেরাপি দেওয়ার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। সে মেহেরুন্নেসাকে দেখে চমকে উঠেন। মেহেরুন্নেসার চেহারা অরুণের ভাষ্য অনুসারে ঠিক তার মায়ের মতো। ফলে অরুণ তাঁকে মা বলে ডাকেন আপাও পুত্র বলে পরিচয় দিতেন। অরুণ আমাদের অন্য ভাতিজা-ভাতিজি-ভাগ্নে-ভাগ্নীর একজন হয়েই আছে। অন্বিতা লিউকেমিয়াতে আক্রান্ত হলে আপা এতটা দুঃখ পেয়েছিলেন যে ঘর-সংসার-সমাজ সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দুলাভাইও অন্বিতাকে নিজ সন্তান বলে পরিচয় দিতেন। এ সময় আপা ধর্মের শরণাপণ্ন হয়ে যান। এ সময়ে সেলিম আল দীনের লেখা-জোখার প্রতি তেমন কোন নজর দিতে পারেননি। এ সময়ের অনেক লেখাই আপার সংগ্রহে নেই।

আমার বাসায় ক্যাকটাসসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির গাছ আছে। এর বেশির ভাগ আপার কাছ থেকে পাওয়া। আপা নতুন কোন গাছ পেলে প্রথম চারা তৈরি করে তা আমাকে সরবরাহ করতো। আবার আমিও অফিসের কাজে নানা জেলায় গিয়ে যে সব গাছ-পালা জোগাড় করেছি তা থেকে চারা হলে আপাকে সরবরাহ করেছি। আপা শুধু ফুল ফলের গাছ সংগ্রহ করতেন না, তাঁর সংগ্রহে বা অন্যের সংগ্রহে হলেও গাছের নাম ও বৈশিষ্ট্য জেনে নিতেন। সেলিম আল দীনের লেখায় যত ফুল-পাখি-গাছপালা তার অনেকটাই আপার কাছ থেকে চেনা।

সেলিম আল দীনের জীবদ্দশায় তাঁর রচনাবলীর প্রকাশনা শুরু হয়। দুইখণ্ড প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি মারা যান। সাইমন জাকারিয়া আপার সহায়তায় অষ্টমখণ্ড পর্যন্ত প্রকাশ করে। এ প্রকাশনার সব লেখা আপার সংগ্রহ থেকে পাওয়া। সাইমন না বুঝে অষ্টমখণ্ডে শেষখণ্ড বলে উল্লেখ করে। এর অল্প আগে অন্য একটি প্রকাশনা সংস্থা সেলিম আল দীন নাটক সমগ্র প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। মাওলা ব্রাদার্স কাউকে কোনকিছু না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নাটক সমগ্র প্রথমখণ্ড ছাপিয়ে ফেলে। বাঁধাইয়ের আগে আমি ছাপানো স্ক্রিপ্ট এনে প্রুফ দেখি। পরে সংশোধনীসহ নাটক সমগ্র প্রথমখণ্ড বের হয়। এরপর থেকে যেহেতু এ বিষয়ে আমার অতীত অভিজ্ঞতা কম সে জন্য প্রথম প্রুফ দেখে দ্বিতীয় প্রুফ আপাকে দেখতে দিতাম। আপা আসলে প্রুফ দেখতেন না; করতেন সম্পাদনা। প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তেন। শব্দটি বাক্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কী না। যে অঞ্চলের ভাষায় লেখা সে অঞ্চলে শব্দটি ব্যবহৃত হয় কী না। রচনার এক অংশের সাথে অন্য অংশের গড়মিল হোল কী না তা পরখ করতে এক লেখা একাধিক বার পড়তেন। ফলে প্রকাশনা বিলম্বিত হতো। আপার কথা ছিল বিলম্ব হোক কিন্তু ভুল বানান/তথ্যে লেখা ছাপা যাবে না। কারণ অনেকে সেলিম আল দীনের লেখা দুর্বোধ্য মনে করে ভুলকেও শুদ্ধ মনে করেন। যা পরবর্তীতে জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

আপা মোটেই বৈষয়িক ছিলেন না। অনেকেই আপার কাছে টাকা-পয়সা ধার নিয়েছে কিন্তু সঠিক সময়ে বা সঠিক পরিমানে ফেরত দেননি। অনেকে ফেরতও দেননি। কিন্তু আপা মুখ ফুটে তা কখনোও বলতেন না। দুলাভাইয়ের মৃত্যুর পরও টাকা-পয়সা নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করতেন না। আপার মৃত্যুর পর আমরা তাঁর আলমারি খুলে কাগজ-পত্র দেখে প্রথম বুঝতে পারি কত টাকা রেখে গেছেন। কিন্তু যাদের ধার দিয়েছেন তাদের কত টাকা দিয়েছেন তার সঠিক পরিমাণ জানা যায় না তবে কিছুটা অনুমান করা যায়। যাদের বিপদে-আপদে টাকা-পয়সা ধার দিয়ে উপকার করেছেন তারাই অনেকে আপার ক্ষতি করেছে।

সেলিম আল দীনের মৃত্যুর পর মিডিয়ার কিছু লোক সম্মানী দেবে বলে পাণ্ডুলিপি নিয়ে গেছে কিন্তু নাটক প্রচারিত হবার পরও তারা কথিত সম্মানী পরিশোধ করে নাই। অনেকের কাছে নাটকের পাণ্ডুলিপি আছে কিন্তু বারবার অনুরোধ করার পরও তারা পাণ্ডুলিপির কপি দেয় নাই ফলে রচনাসমগ্র প্রকাশনা গতি পাচ্ছে না। অনেক চেষ্টা করেও সেলিম আল দীন ফাউন্ডেশন শুরু করতে পারেন নাই। এ রকম নানা বিড়ম্বনা নিয়ে তাদের অকৃতজ্ঞতার প্রতি ঘৃণা নিয়ে শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করছিলেন। ফলে আপা শেষ জীবনে এসে কয়েকটি লেখা লিখছিলেন। কোন লেখাই পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে বিষয় অনুসারে ছোট ছোট পয়েন্ট আকারে নোট নেয়া আছে। তার কিছু কবিতা, কিছু আত্মজৈবনিক, কিছু লেখার জবাব।

আপার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবার জন্য আমার সীমিত সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। সকলের সহযোগিতায় তা শেষ হবে। আপার আশীর্বাদ নিশ্চয় আছে আমার মাথার উপরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *