ক্ষমিও মাতা অভাগা সন্তানেরে

গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

সালাম সাকলাইন
বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা। আচার্য সেলিম আল দীনের সহধর্মিনী। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। ১০ জানুয়ারি ২০১৭, ভোরে আবদুস সালাম ফোন করে আমাকে জানায়, মামা আপনার মা আর নেই। এই মহিয়সী মাতার মহাপ্রয়াণের খবর শুনে আমি নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকি। বুক ভেঙ্গে কান্না আসে । কিন্তু চিৎকার করে কাঁদতে পারিনি। বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট গুমরে মরে।

আজ তাঁর কথা মনে পড়ে। ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে আমি যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হই তখন থেকে আচার্য সেলিম আল দীন ও বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিমকে চিনি। সেলিম আল দীন আমাদের পড়াতেন নাটক ও কালকেতু উপাখ্যান। তিনি প্রথম দিনের ক্লাসেই আমাকে ও আবুল কাশেম মোকতাদুর রহমান মুক্তাকে ক্লাস থেকে বের করে দিলেন। পরে অবশ্য তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ক হয়ে গেলো পিতাপুত্রের। সেই থেকে সেলিম আল দীন ও বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিমের মহাপ্রয়াণের পূর্ব পর্যন্ত সেই সম্পর্ক বজায় ছিল। সে সব আজ মনে হলে ভাবতে কষ্ট হয়- তাঁরা দুজনেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

১৯৮০ সালের দিকে আমি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ি। সেই সময়ে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আমাদের মাঝে মাঝেই ছোটখাটো মারপিট হতো। আক্রমন, পাল্টা আক্রমনে আমরা সবাই জড়িয়ে পড়তাম। তখন সেলিম আল দীন আমাকে নটী বিনোদিনীর জীবনকাহিনি পড়তে বাধ্য করেন এবং বলেন- ‘কবিতা বাদ দিয়ে নাটক লিখ বেটা।’ সত্যি কথা বলতে গেলে সেই থেকে আমার নাটক লেখা শুরু। আমার প্রতিটি নাটক তাঁরই অনুপ্রেরণার ফসল। ১৯৮১ সাল থেকে সারাদেশে গ্রাম থিয়েটার গঠন ও মেলাপত্তনের কাজ শুরু হলে নাট্যপন্ডিত নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সেলিম আল দীনের সাথে এই কাজে যুক্ত হই। এভাবে সেলিম আল দীন ও বেগমজাদী মেহেরুন্নেসার পরিবারের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ ঘটে।

এরাশাদের আমলে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়ে আবাসিক হলগুলো খালি করে ফেলা হতো। তখন আমি বাড়ি না গিয়ে কখনো সেলিম আল দীনের বাসায় কখনো বা বাংলা বিভাগের তৎকালীন ছাত্র (বর্তমানে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক) রশীদ হারুনের টঙ্গী বাজার রোডের বাড়িতে থাকতাম। সেই সময়ে একদিকে এরশাদবিরোধী আন্দোলন অন্যদিকে গ্রাম থিয়েটার আন্দোলন। এই ঝক্কি-ঝামেলার মাঝে দুটো ভাত খেতাম মাতা বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিমের বাসায়। সময় অসময়ে এ ধরনের বাড়তি ঝামেলা শুধুমাত্র আমি একা করিনি। আরো অনেক ছাত্রছাত্রী, গ্রাম থিয়েটারের কর্মী কিংবা নাটকের কর্মীরা একই রকম জ্বালাতন করতো। এসব সহ্য করতেন নীরবে- সেই আমার মাতা বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম। অনেকে অবগত আছেন, আচার্য সেলিম আল দীন নাটক লেখা ভিন্ন অন্য যে কোনো কাজে খুবই অগোছালো ও অপরিচ্ছন্ন ছিলেন। তাঁর পোশাক, বইপত্র, লেখার কাগজপত্র কোন কিছুই সুবিন্যস্ত থাকতো না। এমন একজন মানুষের সবকিছু আজীবন গুছিয়ে দিয়েছেন বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম। সেলিম আল দীন যেকোন সময়ে লিখতে বসতেন। সেটা রাত ২টা হতে পারে ৫টা কিংবা ভোর ৬টাও হতে পারে। তাতে সারা বাসায় তোলপাড় হতো আমার মাতা বিরক্ত হয়েও সেসব মেনে নিতেন। ২০০৮ সালে আচার্য সেলিম আল দীনের ইন্তেকালের পর বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম একা হয়ে যান। জনারণ্যে একা, মিসেস সেলিম আল দীন। কিন্তু তিনি বসে সময় কাটাননি। তাঁর ছোট ভাই কামরুল হাসান খানকে সঙ্গে নিয়ে আচার্যের ‘রচনা সমগ্র’ বের করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। সেলিম আল দীনের পুরাতন পাণ্ডুলিপির খোঁজে তিনি রেডিও, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তাতে কয়েকটি পাণ্ডুলিপির সংগৃহীত হয়েছে। আবার যেগুলো সংগৃহীত হয়নি সেগুলোর জন্য সারাক্ষণ তিনি দেশের নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। আশ্চর্য হয়ে ভাবি, তিনি সেলিম আল দীনের হাতের লেখা দুটো অক্ষর পেলেও তা সংগ্রহে রেখেছেন। এমনটি সবার ভাগ্যে ঘটে না।

আচার্য সেলিম আল দীনের মহাপ্রয়াণের পর তাঁর কম্পিউটারের হার্ড ডিস্কে কোন কিছু পাওয়া গেল না। কিন্তু আমরা জানি, সেলিম আল দীন একই সঙ্গে তিন চারটি নাটকের প্লট নিয়ে কাজ করতেন। এ নিয়ে নানা কথা আছে। এ বিষয়ে বেগমজাদী রেডিও, টিভি, পত্র-পত্রিকায় বলে গেছেন কম্পিউটার থেকে আচার্যের লেখা চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি অনেকের কাছে অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। মেধা চোরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আগামীদিনে পাওয়া যেতে পারে কিনা তারও সম্ভাবনা দেখি না। কম্পিউটার খালি করা রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তিনি কতই না প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। সে কথা ভাবলে আমাদের আজ শুধুই কষ্ট বাড়ে। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি তিনি ঘোষণা করেছিলেন বাকি জীবনটা গ্রাম থিয়েটারের কাজে লাগাবেন। তিনি প্রতিটি অনুষ্ঠানে গিয়ে গ্রাম থিয়েটার, ঢাকা থিয়েটার এবং সেলিম আল দীনের নাটক নিয়ে কথা বলবেন- এমন ঘোষণাও করেছিলেন। এই সেদিন ১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে সিরাজগঞ্জ প্রসূন থিয়েটারের নাট্য উৎসবে যাবার আমন্ত্রণ জানালেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না। সেই আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন, আহা! ১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ সকাল ১০টায় আমি ও বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলাম। সে যাত্রায় সেলিম আল দীনের শ্যালিকা নাসরিন সুলতানা, তার স্বামী আবদুস সালাম এবং ওদের পুত্র অরিত্র আমাদের সফরসঙ্গী ছিলেন। টাঙ্গাইল পৌঁছার আগে উতলা হয়ে উঠলেন বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা। তিনি বললেন, একটু করটিয়া সা’দত কলেজ দেখতে চাই। এখানে বলে রাখি, তাঁর পিতা অধ্যক্ষ এম এ খান এই কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন আর তাঁর ভাই প্রিন্স অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি নিজে ছিলেন বাংলা বিভাগের ছাত্রী। করটিয়া সা’দত কলেজে গিয়ে তাঁদের সেই আমলের বাসা খুঁজে বের করলেন। কোথায় পুকুরপাড়ে তিনি বসতেন, কোথায় সেলিম আল দীনের সাথে তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিলো- সব ইতিহাস তিনি বলে যেতে লাগলেন। সময় যায় তাঁর কথা শেষ হয় না। এইখানে তাঁর শৈশব ও যৌবনকাল কেটেছে। কত স্মৃতি, কত কথা। অতঃপর আমি বলি, চলেন। সিরাজগঞ্জে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাবে। আমরা যখন সিরাজগঞ্জে পৌঁছলাম তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল। আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল অনিক হোটেলে আর খাবার ব্যবস্থা ছিল শাহীনের বাসায়। যমুনার নানা জাতের তাজা মাছ- কী বিপুল আয়োজন! বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা তাদের আদর-আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। খেয়েই আমরা চলে যাই যমুনার হার্ট পয়েন্টে। বর্তমান মরা যমুনার বিশালতা দেখেই বিস্ময় প্রকাশ করেন, আগে না জানি কত বড় ছিল যমুনা। সন্ধ্যায় প্রসূন থিয়েটারের ২৩ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আহা, কত সহজ ও সুন্দরভাবে তিনি গ্রাম থিয়েটারের নাট্য আন্দোলনের কথা তুলে ধরলেন, আমি বিমোহিত হয়ে তাঁর বক্তব্য শুনি আর শুনি।

পরদিন ২ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে সকালে আমরা যাই শাহজাদপুর রবীন্দ্রনাথের কাচারি বাড়িতে। সেখানে আমাদের স্বাগত জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ জাকসুর প্রাক্তন ভিপি ও শাহজাদপুর উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, জাকসুর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত জিএস রাশিদুল আলম জাফর এবং জাবি’র প্রাক্তন ছাত্রী ও রবীন্দ্র কাচারি বাড়ির কাস্টোডিয়ান হালিমা। সারাদিন তাঁরা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। সে কী আপ্যায়ন! রাজকীয় ব্যাপার। আজাদ রহমান বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিমকে বলেন, চলেন আপনাকে ববিতা-শাবানা-কবরীকে দেখিয়ে আনি। আমরা এ কথা শুনে অবাক হই। ববিতা, শাবানা, করবী এখানে? মানে কী? আজাদ রহমান জানালেন এখানে গরুর বাথানে শত শত গাভি আছে। তার কোনটার নাম ববিতা আবার কোনটার নাম শাবানা। তাদের নাম ধরে ডাকলেই শত শত গাভির মধ্য থেকে শাবানা-ববিতা চলে আসে। আমাদের হাতে সময় ছিলো না। তাই ঐদিনই আমরা শাহজাদপুর থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে আসি। তবে বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম হাসতে হাসতে বলেছিলেন, আজাদ ববিতা-শাবানাকে দেখতে আসবো, অবশ্যই আসবো। তিনি চলে গেছেন আরেক জগতে, তাঁর আর ববিতা-শাবানাকে দেখা হলো না।

৯ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে আমরা গিয়েছিলাম গাজীপুর বিজয় উৎসবে। সেখানে ঢাকা বিভাগীয় গ্রাম থিয়েটারের প্রধান সমন্বয়কারী কামরুল হাসান খান ঢাকা বিভাগীয় গ্রাম থিয়েটার নাট্য উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। সে অনুষ্ঠানে বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিম ছিলেন প্রধান অতিথি, আমি ছিলাম বিশেষ অতিথি। তাঁর ভাষণের আগে আমি বক্তব্য রাখলাম। তিনি বললেন, ‘তুমি ত দর্শক পাগল কইরা ফালাইছো বেটা এখন আমার উপায় কী?’ আমি বললাম, শুরু করেন। আপনার ভাষণ আরো ভালো হবে। তিনি শুরু করলেন সেলিম আল দীন, তাঁর নাটক, গ্রাম থিয়েটার, ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাটক ইত্যাদি নিয়ে। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দর্শকমণ্ডলী তাঁর কথা শুনলো। ফেরার পথে কত কথা। কত কত কাজ করবেন সেসব পরিকল্পনার কথা বলতে বলতে মজা করে বললেন, ‘ঢাকা শহরের আশেপাশের কোন অনুষ্ঠানে আমি আর অতিথি হবো না, ঐসব অনুষ্ঠানে তুমিই যেও বেটা।’ ঘটনা কী? ঘটনা হলো, ঢাকার আশেপাশের অনুষ্ঠানে তো ভাত, তাজা মাছ খাওয়ায় না। বাসায় গিয়ে রান্না করে খেতে হয়। এই কথা শুনে আমরা হাসতে হাসতে মরি। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে ধামরাই ইসলামপুরে বঙ্গ থিয়েটারে গেলেন। সঙ্গে আমি, কামরুল হাসান খান, নাসরিন সুলতানা বিলকিসের স্বামী আবদুস সালাম।

বঙ্গ থিয়েটারেই তিনি শেষ ভাষণ দিয়েছেন। তিনি তাঁর ভাষণে ঐতিহ্যবাহী বংশাই নদী, বংশাই থিয়েটার, শেখ দারোগ আলী বয়াতির মেলা, ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথমেলা, কাকরান পটারি, হাজীপুরের মেলার কথা তুলে ধরেন। তিনি গর্বের সাথে আরো তুলে ধরেন ব্রিটিশ আমলের ধামরাই ও সোনারগাঁয়ের মসলিন শিল্পের কথা। তিনি বলেন আমরা দরিদ্র নই, আমরা এক ঐতিহ্যবাহী শিল্প-সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উত্তরাধিকারী। এই অনুষ্ঠানের কিছুদিন পরে তিনি কক্সবাজার বেড়াতে যান। তাঁর দীর্ঘদিনের শখ ছিল সাগর দেখার। ফিরে এসে তিনি সাগরের বিশালতা নিয়ে গল্প করেন উৎসাহের সাথে। তারপর হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলেন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। তার গল ব্লাডারে পাথর হয়েছিল। সেটা অপারেশনও হলো। কিন্তু তিনি আর ফিরলেন না। ১০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ ভোরে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেল। তিনি চেয়েছিলেন সেলিম আল দীন এর সকল স্মৃতি সংগ্রহ করতে। তাঁর প্রতিটি হস্তাক্ষর তা যেখানেই থাকুক সেখান থেকেই কুড়িয়ে আনবেন তিনি। সেলিম আল দীনের কম্পিউটারের হার্ডডিক্স খালি হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটিত হলো না। এখন কে আর তা নিয়ে চিন্তা করবে? এখন কে খুঁজে খুঁজে পত্রিকা থেকে সেলিম আল দীন, গ্রাম থিয়েটার আর ঢাকা থিয়েটারের ওপর রচিত লেখাগুলো কাটিং করবে? তিনি অনেক সময় আমাদের অনেক কাজ করতে বলেছেন। তার কোনটা আমরা করতে পেরেছি আবার কোনটা পারিনি। জীবদ্দশায় সেলিম আল দীনের সঙ্গে তাঁর মাঝে মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে, আবার তা মিটেও গেছে। যেমনটি আমাদের সংসারে ঘটে থাকে। শত ব্যস্ততার মাঝে হয় তো আমরা তাঁকে ভুলে যাবো। নতুন সেবকেরা এসে ভুলিয়ে দেবে পুরাতন সেবকের কথা। এটাই নির্মম রীতি। তবে আমরা যদি মনে রাখি সেলিম আল দীন, ঢাকা থিয়েটার ও গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনের একজন নিষ্ঠাবান সেবিকা ছিলেন তিনি, তাহলে কিছুটা হলেও তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা আচার্য সেলিম আল দীনের নাট্য রচনার সহযাত্রী ছিলেন। ঢাকা থিয়েটার আর গ্রাম থিয়েটারের জীবনকর্মী ছিলেন তিনি। সেলিম আল দীন, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার নিয়ে তাঁর আশা-আকাক্সক্ষার সীমা ছিল না। তাঁর সেইসব আশা-আকাক্সক্ষা আমরা পূরণ করতে পারিনি। তাই ভরসা করি ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের ওপর। এই দুটি সংগঠন বেঁচে থাকলে সেলিম আল দীন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা সেলিমের আশা-আকাক্সক্ষার দীপশিখা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে। তারপরও হয়তো আমরা অনেক কিছু করতে পারবো না। তাই নত শিরে বলি- ক্ষমিও মাতা অভাগা সন্তানেরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *