ছোটদের নাটক। মহাপতঙ্গ : রুবাইয়াৎ আহমেদ

গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

প্রারম্ভগীত

ভুবন জুড়ে বইছে বাতাস
আকাশ ভরা আলো
মুক্ত মোরা ভাসছি সুখে
লাগছে বড় ভালো
সবুজ সবুজ গাছের শাখা
আলতো হাওয়ায় দোলে
মাটির মাঝে পড়ে ছায়া
আলোর সনে খেলে
ঝরনা হতে ঝরে পানি
শীতল হাসি হাসে
ঘাসের ডগায় জলের ফোটা
মুক্তো হয়ে ভাসে
এই জগতের সকলকিছু
সুন্দর মোহময়
হানাহানির তরে সব
কেবল ধ্বংস হয়

হঠাৎ উড়োজাহাজের শব্দ। পাখিদের মাঝে ভীতি। কলরব

পাখি-১: শোনো পাখিরা সব। কিছুক্ষণের মাঝেই পাখিদের জরুরি সভা বসবে। সবাই এসো কিন্তু। খু-উ-ব জরুরি।
মেয়ে চড়–ই: হঠাৎ সভার ডাক পড়ল কেন?
ছেলে চড়–ই: নিশ্চয় ওই বিশাল পাখি নিয়েই কিছু হবে।
মেয়ে চড়–ই: ওই যে সভা শুরু হচ্ছে। চল যাই।

পাখিরাজ্যে জরুরি সভা

পাখি-২: এতো বিশাল পাখি, কখনো দেখিনি। ভয়ে মরি মরি।
পাখি-৩: ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমার মনে হয় এটা শস্যভোজী। মাংসভোজী রাক্ষস নয়।
পাখি-৪: না না না। এটা নিশ্চয় রাক্ষস-পাখি। কত বিশাল। রাগের চোটে কেমন বোঁ বোঁ করছি। মনে হচ্ছিল এক্ষুণি টপাটপ ধরে চিবিয়ে খাবে। দেখ দেখ আমার বুকের ধুকপুকানি এখনো কমেনি। ক্রমেই বাড়ছে, যতবার মনে পড়ছে।
পাখি-২: ঠিকই বলেছো। এটা রাক্ষস-পাখিই হবে। তর্জন-গর্জন শুনেও বুঝতে পারোনি তোমরা? এটা আমাদের খপাখপ ধরবে আর টপাটপ গিলবে। ভাবতেই ভয়ে গা শিউরে উঠছে। বাঁচতে চাইলে চল সবাই পালাই এ রাজ্য ছেড়ে।
কয়েকটি পাখি: ঠিক ঠিক। চল পালাই। আর দেরি নয়।

পাখিরা পালিয়ে যায়। শুধু একটি চড়–ই দম্পতি থেকে যায়

মেয়ে চড়–ই: আমরা যাবো না?
ছেলে চড়–ই: না।
মেয়ে চড়–ই: কেন? এখানে থাকলে তো মারা পড়বো।
ছেলে চড়–ই: তুমি ওই পাখিটাকে চিনতে পেরেছো?
মেয়ে চড়–ই: উঁহুঁ
ছেলে চড়–ই: আরে! বাবা তো এটার কেচ্ছাই শুনিয়েছিল একদিন। মনে নেই?
মেয়ে চড়–ই: অহ্ হো, মহাপতঙ্গ?
ছেলে চড়–ই: হ্যাঁ হ্যাঁ তাই। মনে নেই মা একদিন গল্প শুনিয়েছিল, বলেছিল ছোঁ রক্ষসের কথা। আমাদেরই মতো পাখাওয়ালা আকাশচারী জীব। খুব তীক্ষ্ন দৃষ্টি। মাটির দিকে চোখ রেখে ওরা ভেসে বেড়ায় আকাশে। সুযোগ পেলে চোখের পলকে ছোঁ মেরে বাঁকা নখ বিঁধিয়ে ধরে নিয়ে যায়। তারপর গাছে বসে ঠোকর মেরে মেরে চোখ খায়, বুক খায়, কলজে খায়।
মেয়ে চড়–ই: হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে তো। খুব ভয় পেয়েছিলাম। মায়ের ডানার মধ্যে মুখ লুকিয়ে ছিলাম। তখন তুমি মার কাছে জানতে চেয়েছিলে, সবচেয়ে বড় পাখি কোনটা?
ছেলে চড়–ই: আর মা তখন বলেছিল-
মা চড়–ই: তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। কারণ বড়পাখিটা সে দেখেছিল। বলো নাগো, সেই বড়পাখির গল্পটা।
বাবা চড়–ই: আমরা তখন ছিলাম অনাবৃষ্টির দেশে। তোদের মা ডিমে তা দিচ্ছিল। আমি গিয়েছিলাম কুড়িয়ে খেতে। হঠাৎ বিকট শব্দ। চেয়ে দেখি অতি প্রকাণ্ড এক পাখি বোঁ- বোঁ আওয়াজ তুলে উড়ে যাচ্ছে অনেক দূর দিয়ে। পাখিটি ছিল অনেক উঁচুতে।
মেয়ে চড়–ই: ওটা কি ছোঁ-রাক্ষসের মতো ছোঁ মারে বাবা?
বাবা চড়–ই: তাতো দেখিনি মা। ওই একদিনই দেখেছি ওটা।
ছেলে চড়–ই: ওটা দেখতে কেমন বাবা?
বাবা চড়–ই: ওটা দেখতে কেমন? ওটা দেখতে… হ্যাঁ, ওটা দেখতে অনেকটা ফড়িং-এর মতো। লেজ-লম্বা-ফড়িং দেখেছিস না?
ছেলে-মেয়ে চড়–ই: হুম, দেখেছি তো।
বাবা চড়–ই: সেই ফড়িং-এর মতো পাখা আর লম্বা লেজ। সে এক মহা…পতঙ্গ। সে যে কতবড়, না দেখলে বোঝা যাবে না। বিশাল। বোঁ বোঁ করে উড়ে বেড়ায়।
ছেলে চড়–ই: বাবার বর্ণনার সঙ্গে ঠিকঠাক মিলে যাচ্ছে। আজকের এই আকাশচারী জীবটি মহাপতঙ্গ না হয়ে যায় না।
মেয়ে চড়–ই: তারপরও আমার কিন্তু ভয় করছে।
ছেলে চড়–ই: ভয়ের কিছু নেই। চল বাসাটা ঠিকঠাক করি। তোমার না ডিম পাড়ার সময় হয়েছে?
মেয়ে চড়–ই: কোথায় বাসা বাঁধবে?
ছেলে চড়–ই: ওই যে দো-পেয়ে দৈত্যদের পাকাবাড়ি। ওই বাড়িতে একটা ফোঁকড় আছে। সেখানেই বাঁধবো বাসা।
মেয়ে চড়–ই: চল তবে।

চড়–ই দম্পতি বাসা বাঁধতে লেগে যায়

খড়কূটো সব মুখে নিয়ে
আমরা উড়ে যাই
নকশিকাঁথার বুনন দিয়ে
ছোট্ট নীড় বানাই
সেই নীড়েতে ফুটবে ডিম
আসবে চড়–ইছানা
কিচিরমিচির শব্দে আহা
ভরবে এ প্রাণখানা।

পুরুষ: ওগো দেখ দেখ, চড়–ইপাখি বাসা বাঁধছে। খুব শুভ লক্ষণ। এরা ভালো দেখে আসে আর মন্দ দেখে পালায়। বুঝলে, বছরটা ভালো যাবে।
নারী: তাই যেন হয়। গেলবার খরায় কী কষ্টটাই না হয়েছে।
পুরুষ: হুম, পানি ছিল না কোথাও, কত দূর দূরান্ত থেকে সামান্য পানি নিয়ে আসতে হতো। মেপে মেপে খরচ করতে হতো।
নারী: খাদ্য ছিল না পর্যাপ্ত। একবেলা আধাপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে।
পুরুষ: আর প্রচণ্ড গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা হয়েছিল।
নারী: সেই দিন যেন আর না আসে।

কিন্তু এবার দেশজুড়ে বন্যার আভাস

যা ভাবে এই মন
সব কি আর হয়
প্রবল বাতাস হায়
চারদিকে বয়
তুমুল বৃষ্টি নামে
জলে ডোবে সব
ঠাঁই নাই বলে আহা
সবে করে রব

মেয়ে চড়–ই: কি হবে এখন? প্রতিবেশি চড়–ইগুলোও চলে গেছে এ অঞ্চল ছেড়ে।
ছেলে চড়–ই: হুম, এই বাড়ির দো-পেয়ে দৈত্যরাও চলে গেছে। কিন্তু আমাদের দুটো ছোট্ট ছানা। পাখা শক্ত হয়নি, উড়তে পারে না। ওদের ফেলে কীভাবে যাই বল?
দুটো চড়–ইছানা: আমাদের ছেড়ে যেয়ো না, যেয়ো না।
মেয়ে চড়–ই: যাবো না বাছারা, যাবো না।

হঠাৎ উড়োজাহাজের শব্দ

মেয়ে চড়–ই: কীসের শব্দ?
ছেলে চড়–ই: নিশ্চয় ওই মহাপতঙ্গের। এমন শব্দ আর কোনো প্রাণীর নয়।
মেয়ে চড়–ই: দেখ দেখ, কেমন গোত্তা খেয়ে নিচে নামছে।
ছেলে চড়–ই: তাই তো। আওে এতো দেখি পানির মাঝে নেমে গেছে।
মেয়ে চড়–ই: দেখেছো সাঁতারও কাটতে জানে।
দুটো চড়–ইছানা: আমাদের খেতে আসেনি তো? ভয় করছে।
ছেলে চড়–ই: না না, খাবে না। আওে একটা দো- পেয়ে দৈত্য তো দেখছি মহাপতঙ্গের পেট থেকে বেরিয়ে আসছে।
মেয়ে চড়–ই: হ্যাঁ গো, অন্য দো- পেয়ে দৈত্যগুলোও হুল্লোড় করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে।
ছেলে চড়–ই: আরে আরে দেখ কি করছে। এতোগুলো দো-পেয়ে দৈত্য মহাপতঙ্গের পেটে হাসতে হাসতে ঢুকে গেল।
মেয়ে চড়–ই: দেখ দেখ, মহাপতঙ্গটা এতোগুলো দো-পেয়ে দৈত্যকে পেটে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে।
ছেলে চড়–ই: দো-পেয়ে দৈত্যগুলোর কাণ্ড দেখেছো? এরা জগৎ টেটন। মহাপতঙ্গকেও পোষ মানিয়ে ফেলেছে।
মেয়ে চড়–ই: সত্যি ওদের বুদ্ধির তারিফ করতে হয়।
দুটো চড়–ইছানা: কেন মা?
মেয়ে চড়–ই: হ্যাঁ রে, হ্যাঁ, বড় হয়ে যখন বাইরে যাবি তখন দেখতে পাবি। হাম্বা-হাবা, ভ্যাঁ- ভোম্বল, ঘেঁই-পা-চাটা, কুউক্কু রুত, প্যাঁক- চৈচৈ, ম্যাও- খোক্কস, শুণ্ডধর, চিঁহি টগবগ আরো কত জীব-জানোয়ারকে যে ওরা পোষ মানিয়েছে তার কোনো হিসাব নাই।
ছেলে চড়–ই: এই হাম্বা-হাবার অবস্থা দেখে আমার হাসিও পায় দুঃখও হয়। বেচারাদেও নানান কাজে খাটিয়ে তো মারেই। আবার যেগুলোর পেটের নিচে ঝুলে পড়া চামড়া রয়েছে সেগুলোর ওই চামড়া টেনে টিপে সাদা রস বের করে দো- পেয়ে দৈত্যগুলো নিজেদের গলা ভিজায়।
মেয়ে চড়–ই: আবার দ্যাখো বিরাটাকারের শুণ্ড ধর, দেখলেই ভয়ে মূর্চ্ছা যাওয়ার দশা, আর চিঁহি টগবগ- ওদেও পোষ মানিয়ে কেমন পিঠে চড়ে মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়।
ছেলে চড়–ই: এতেও সাধ মেটেনি। এবার দেখ কী করেছে? মহাপতঙ্গকে পোষ মানিয়ে ওদের পেটের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। দলবেঁধে ওই পেটে বসে মহানন্দে আকাশ পাড়ি দিচ্ছে।

বন্যায় দুর্গতদের জন্য ত্রাণ

এইভাবে একদিন দুইদিন যায়
বন্যার পানি ধীরে ঠিক যে শুকায়
বন্যা তো গেল হায় খাবার যে নাই
চারদিকে হাহাকার করে রে সবাই
এমনও সময় এক দিন যে আসে
মহা সেই পতঙ্গের ছায়া আকাশে
সেখান থেকে ফেলে ডিমের মতন
বড় বড় কী যেন আকার তেমন
দো-পেয়ে দৈত্যরা হই হই করে
সেইসব ডিম নিয়ে যায় যে ঘরে
কোনো কোনো ডিম ফেটে চৌচির হয়ে
ভিতর থেকে দানা পড়ে ছড়িয়ে
কাছে গিয়ে দেখে চড়–ই শস্যদানা
ঠোঁটে নিয়ে বোঝে এতো খাদ্যকণা
যত পারে মুখে পুড়ে যায় যে উড়ে
নীড়ে ফিরে মহাসুখে খায় পেট ভরে

ছেলে চড়–ই: দেখলে, দো-পেয়ে দৈত্যগুলো সব পারে। সমস্ত অশান্তি-দুঃখ দূর করতে পারে। ওরা চাইলে এই পৃথিবীকে করতে পারে আরো সুন্দর।
মেয়ে চড়–ই: হ্যাঁ, তা পারে ওরা। যদি ওরা পণ করে তবে সুন্দর করতে পারে এই পৃথিবী।
দুটো চড়–ইছানা: সে কেমন মা?
মেয়ে চড়–ই: এই যে পৃথিবী কত সুন্দর। রাতে চাঁদ ওঠে, দিনে সূর্যের আলোতে ঝলমল করে চারদিক। কত সবুজ বৃক্ষ।
ছেলে চড়–ই: সুশীতল পানি, গা জুড়ানো হওয়া, সুস্বাদু খাবার। কত প্রাণ-প্রাচুর্য। সবাই কত সুন্দরভাবেই না থাকতে পারে এখানে। আর ওই দো-পেয়ে দৈত্যগুলো? ওদের অসাধ্য কিচ্ছু নাই। দেখলে না বন্যা আর দুর্ভিক্ষের সময় কীভাবে সাহায্য করেছে সবাইকে। ওরা চাইলেই পারে, যেমন সুন্দর আছে এই পৃথিবী, তাকে আরো রাঙিয়ে তুলতে, ভরিয়ে দিতে।

দো-পেয়ে দৈত্য অথবা মানুষের বন্দনা

দো-পেয়ে ওই দৈত্যগুলো
বেজায় বুদ্ধি ধরে
কোনোকিছু অসাধ্য নাই
তাহাদেরই তরে
ছোট-বড় প্রাণীরা সব
মান্য করে চলে
আজকে শুনি তাইতো সবাই
তাদের ভালো বলে
সুন্দর এই ভুবন যদি
গড়তে তারা পারে
তারাই পাবে শ্রেষ্ঠ খেতাব
বলছি চুপিসারে

হঠাৎ যুদ্ধবিমান ওড়ার শব্দ

মেয়ে চড়–ই: অনেকদিন পর এই শব্দ শুনছি। ওই মহাপতঙ্গ আবার আসছে।
ছেলে চড়–ই: নিশ্চয় আবার কোনো সুসংবাদ নিয়েই আসছে। গেল বছরের বন্যায় যেভাবে খাদ্যকণা দিয়ে গিয়েছিল। এবার নিশ্চয় অন্যকিছু নিয়ে আসছে।
মেয়ে চড়–ই: ভালোই হলো। কিছুদিন নিশ্চন্ত মনে পেটপুড়ে খাওয়া যাবে। নতুন ছানাদুটোর জন্য তো আমি দূরে যেতে পারি না। খাবার সংগ্রহ করতে পারি না।
ছেলে চড়–ই: তোমার যেতে হবে না। ছানাদুটোকে দেখো। কখন আবার ম্যাও-খোক্কস, কুণ্ডলি ফোঁসফোঁস আসবে। কিংবা কা ভক্কুস এসে এদের খেয়ে ফেলবে।
দুটো ছড়–ইছানা: মা, তুমি যেয়ো না। আমাদের ভয় করছে।
মেয়ে চড়–ই: ঠিক আছে বাছারা, আমি যাচ্ছি না। ওগো আমি ওদের কাছে থাকি। তুমিই গিয়ে দেখে এসো।
ছেলে চড়–ই: আচ্ছা, তুমি থাকো ওদের নিয়ে। আমিই গিয়ে দেখে আসি। মহাপতঙ্গ খাবার নিয়ে এলে আমি তোমাদের জন্য টোঁটলা ভরে নিয়ে আসবো।
মহাপতঙ্গের ডিম ফেলা ও বিস্ফোরণ

মহা সেই পতঙ্গ আসছে উড়ে
যেন পাঁচজোড়া বড়পাখি আকাশজুড়ে
কোনটি গোত্তা খেয়ে নিচে নেমেআসে
আবার উড়াল দিয়ে আকাশে ভাসে
যাবার সময় ফেলে ডিম বড় বড়
চড়–ই খুশির চোটে হয় মর মর
আবার খাবার নিয়ে এসেছে যে ভাই
ওদের চেয়ে ভালো ভুবনে কেউ নাই

ছেলে চড়–ই: বারে বা, বড়পাখির বড় রঙ
আন্ডাপাড়ার দ্যাখো ঢং…

বোমা বিস্ফোরণের শব্দ বুম-ম। চড়–ইপাখিটি ছিটকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তাকায়

ছেলে চড়–ই: মহাপতঙ্গের ডিমটা বুঝি ফেটেই গেল। তাইতো এমন শব্দ। বড় পাখির বড় ডিম- এমন তো হবেই। কিন্তু এভাবে ডিম পেড়ে লাভটা কী হল? মাটিতে পড়ে ফেটেই তো গেল। আমাদের মতো তা দিয়ে দিয়ে বাচ্চা ফোটাতে পারল না। আহা রে আমার বাচ্চাগুলো না খেয়ে অপেক্ষা করছে। কিন্তু একটা দানাও তো যোগাড় হয়নি। বাছারা আমার, ক্ষুধায় না জানি কত কষ্ট করছে। যাই বাসায় গিয়ে দেখি ওদের কী অবস্থা। [উড়তে শুরু করে চড়–ইটি] আচ্ছা, ওরা কি শুনতে পেয়েছে ডিম ফাটার শব্দ। মহাপতঙ্গিনীটার দোষ নাই। প্রসববেদনায় টিকতে না পেওে উড়ন্ত অবস্থাতেই ডিম পেড়ে ফেলেছে। দো- পেয়ে দৈত্যের উচিৎ হয়নি পূর্ণগভা পাখিটা চড়ে উড়ে বেড়ানো। কিন্তু আমি কি পথ ভুল করেছি? নাতো। তালগাছ ডানে রেখে দুটো আমগাছের ফাঁক দিয়েই তো এসেছি। কিন্তু ওই সাদা রঙের বাড়িটা কোথায়, যেখানে আমার ছানাদুটো আর স্ত্রী চড়–ই? [চড়–ইটি ডাকে] কই রে তোরা, আমার ছানাপোনা? কোথায় গেলি? [হঠাৎ চমকে ওঠে] এ কী, বাড়ির মালিক দো-পেয়ে দৈত্য যে পড়ে আছে, ব্যথায় কাতরাচ্ছে। কেন এমন হল? [চড়–ইটি কাঁদে] আমার ছোট্ট ছানাদুটো কোথায়? আমার স্ত্রী?

[সমাপ্ত]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *