বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা পারুল

গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

সংক্ষিপ্ত জীবনী
নাম : বেগমজাদী মেহেরুন্নেসা, ডাকনাম পারুল।
পিতা : মোঃ মোকছেদ আলী খান।
মাতা : মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম।
পৈত্রিক নিবাস : তালুকনগর, দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ।
জন্ম
টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার দপ্তিয়ার ইউনিয়নের জালাই গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯৫০ সনের ৩১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। শৈশব-কৈশোর-যৌবন কেটেছে পিতার কর্মস্থল টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া সাদা’ৎ কলেজ কলোনিতে। সে সময়ে করটিয়া সাদা’ৎ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তোফায়েল আহাম্মেদ [যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তান কাউন্সিলের দায়িত্বে ছিলেন। তোফায়েল আহাম্মেদের দায়িত্বের সময়েই সোনারগাঁয়ে লোক-শিল্প যাদুঘরের যাত্রা শুরু হয়।] তোফায়েল আহাম্মেদ ছিলেন সংস্কৃতিবান মানুষ। ফলে কলেজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কলেজে বার্ষিক নাটক, রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী পালিত হতো। এগুলো দেখে দেখে বড় হয়েছেন পারুল। কলেজে পড়াকালীন রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। কলেজ থেকে নিয়মিত বার্ষিক সাহিত্য সাময়িকী ‘বাতায়ন’ প্রকাশিত হতো। এতে পারুলের লেখাও ছাপা হয়েছে।
বিবাহ
২৩ আগস্ট ১৯৭৪ সালে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলিম আল দীনের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহ অনুষ্ঠান মেহেরুন্নেসার জেঠাতোভাই হায়াত আলী খানের হাতিরপুলের বাসায় সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে পিতা মোঃ মোকছেদ আলী খান ও বোন নার্গিস উপস্থিত ছিলেন। সেলিম আল দীনের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খালাতোভাই এনামুল হক খান [পরবর্তীতে জাবি’র ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক] ও ভগ্নীপতি শাজাহান ফিরোজ। অনুষ্ঠানের সবকিছুতে জড়িত ছিলেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শাহজাহান ববি, তুহিন, মাহমুদসহ ঢাকা থিয়েটারের সদস্যরা। বিয়ের ছবি তুলেছিলেন সফিকুল ইসলাম স্বপন। বিয়ের আগের রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে বান্ধবী তরী, জোৎস্না, পীতু [ড. প্রথমা রায়] সহ সহপাঠীরা গায়ে হলুদের আয়োজন করেন।

শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষা : রোকেয়া মেমোরিয়াল মাদ্রাসা- করটিয়াতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
মেট্রিক : আবেদা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, করটিয়ার প্রথম ব্যাচে ১৯৬৫ সালে মানবিক শাখায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
ইন্টারমিডিয়েট : সাদ’ৎ কলেজ, করটিয়া থেকে ১৯৬৭ সালে দ্বিতীয় বিভাগে আইএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
স্নাতক [সম্মান] : সাদ’ৎ কলেজ, করটিয়া থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৭০ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। সে সময়ে কলেজে তাঁর সহপাঠী ছিলেন হাজেরা সুলতানা [দশম সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টির সাংসদ], প্রয়াত খন্দকার আব্দুল বাতেন [দশম সংসদের সাংসদ], মনোয়ারা মনু, সৈয়দ সুজা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হুমকির কারণে চলে যাওয়া সেলিম আল দীন।
এমএ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১৯৭১ শিক্ষাবর্ষে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। তখন ঢাকার বাইরে কোনো কলেজে এমএ করা যেতো না। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য কলেজের স্নাতক সম্মান ও প্রিলিমিনারির [বিএ পাশ] সকলে একসাথে এমএ পড়তেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী ছিলেন মোহাম্মদ মহসিন [নাট্যজন], কাজী রোজী [কবি ও সাংসদ], নিরঞ্জন অধিকারী [অধ্যাপক] সহ অনেকে।
ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ থেকে ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ডিপ্লোমা লাভ করেন।
এমএড : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ থেকে ১৯৭৫ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে ১৩ মে ১৯৭৫ সালে সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে কলেজ শাখা খোলা হলে ২৭ জুলাই ১৯৮০ সালে জুনিয়র লেকচারার পদে উন্নীত হন। ৮ মার্চ ১৯৮৬ সালে প্রভাষক পদে উন্নীত হন। ২০০১ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

সন্তান
বিগত শতকের আশির দশকের শুরুতে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের অল্প পরে [মাইনুল ইসলাম] সন্তানটি মারা যায়।

মৃত্যু
২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোটবোনের বাসায় বসবাসরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। যেহেতু তাঁর হৃদরোগের সমস্যা ছিল সেজন্য হৃদরোগের সমস্যা বলেই ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু এনাম মেডিক্যালে তাঁর পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে। ডাক্তার দ্রুত অপারেশনের প্রয়োজনের কথা বললে উন্নত চিকিৎসার কথা বিবেচনায় ৫ জানুয়ারি হলি ফ্যামেলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হৃদরোগজনিত কারণে কিছু ঔষধ সেবন করার জন্য চিকিৎসক ৭২ ঘণ্টার আগে অপারেশন করা যাবে না বলে জানালে হাসপাতাল ত্যাগ করে পিতার বাসা রায়েরবাজারে চলে আসেন। পরবর্তীতে ৮ জানুয়ারি তাঁর অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর জ্ঞান ফিরে এলেও শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন ও ক্রমান্বয়ে তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ৯ তারিখ রাতে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেয়া হয়। ১০ জানুযারি সকালে তিনি অনন্তলোকে পাড়ি জমান। ঐ দিন বাদ আসর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি [অরুণাপল্লী] কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *