গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

সবটুকু গ্রাম
আনন জামান

বুকে পীঠে শিশির ফোঁটা
এক সকালের কথা বলি।
রাত্রির শেষ শিথানে
চোখে চিবুকে যে স্বপ্ন এসেছিল
তাই বলছিলাম
মনপিতা সেলিম আল দীনের
হিজল ছায়ায়-
সে স্বপ্ন ছিল পৌষালি স্বপ্ন
সকল শূন্যতা
ব্যাখ্যাতীত কায়া নিয়ে
শিয়রে এসে দাঁড়িয়েছিল
দেখছিলাম- পারুল মা’র
শুভ্রডানার নিচ থেকে
রাশি রাশি সাদা রেশমের
সুতা গড়িয়ে পড়ছে।
রাশি রাশি সুতার আরম্ভণ আছে
শেষ নাই-
অবিরল গড়িয়ে পড়ছে
সাদা রেশম।
মনপিতা হাসলেন
কপালের রেখায় রেখায়
নবতর নক্ষত্রের জন্ম সংগীত নিয়ে।
তুই আমার নীলে লীন হবার
স্বপ্ন দেখেছিস।
তারপর পৌষের অন্তে তিনি
ঘননীলে মেলালেন।
পারুল মা’র আগর লোবানের
সুগন্ধী ধোঁয়ায়
রাত্রির শেষে শিথানের
শূন্যতাই কেবল বুকে বেজেছিল।
পারুল মা ছিপছিপে গড়নের ভেতর
কী যে সরল আভিজাত্য।
মনপিতার লেখক সুলভ
অযাচিত আচরণের বিপরীতে
ভক্তের কাছে
বটপাতাদের নিবিড় ছায়া।
শান্তিময় মুখ আর চিবুকে
কাজলাভ মায়া নিয়ে
আঁচল আর সুশীতল ছায়া
রেখে দিতেন দুষ্ট সন্তানাদির জন্য।
তেলাকুচার সাদাটে ফুল
সরিষা ক্ষেতের আলপথ গাঙ্গের পাড়
তিল তিসির গোপন সুরভী
অথবা চৈতালী ফসলের মাঠে হঠাৎ
বাওকুড়ানি
ময়ূরনীল কচুরির ফুল
তার কাব্যে সরল শরীর
মেলে ধরতো।
মনপিতার বাতিল লেখার
অপূর্ণ পাতাও তোলা থাকতো
তার মণি-মাণিক্যের
অভেদ্য সিন্ধুকে।
এখন ঐ নীলে লীন
পারুল মা’র সংসার-
চাঁদতারা সাঁজোয়া আকাশে
কাব্যের ঘরবসতি
নীলের ভেতর নীল বলে
আলাদা করে
চেনা যায় না।
পারুল মা’র
প্রয়াণের পর
বুকে বুকে এই ভাবি
তুমি গ্রাম থিয়েটারের
সৌন্দর্যভরা সবটুকু গ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *