গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

সান্দ্রতমা
রুবাইয়াৎ আহমেদ

[গুরুপত্নী বেগমজাদী মেহেরুন্নেসার স্মৃতির উদ্দেশে]

যদি বলি-
প্রলোভন ছিলো না তোমার
এ বড় বেমানান,
সত্যের অপলাপ হবে
মানবী হিসেবে যা যা কাম্য
সেসবের প্রতি
তেমন মোহ
কিংবা
লালসার গণগণে শিখায়
দগ্ধ হওনি-
অথবা
বলা যেতে পারে
ওইসব বস্তুগত দ্যুতির বেড়াজাল থেকে
দূরে সরে ছিলে
জানি তো সবাই
তাই বলে কি মুক্ত ছিলে
আকাক্সক্ষা হতে?
শাড়ির আঁচলে বাঁধা
চাবির গোছার ঝনাৎ শব্দের মতো
অকস্মাৎ উঁকি কি দেয়নি
জাগতিক প্রাপ্তির লিপ্সা,
সদ্যোজাত শিশুর গালের জোৎস্নায়
আচানক উড়ে যাওয়া
বাদুরের মতো
দীর্ঘশ্বাস কি মিলায়নি সংগোপনে
প্রথম রক্তক্ষরণের ম্রিয়মাণতায়?
হাড়ের কাঠামোয় শোণিতধারায়
তুমিও তো প্রাণ
আর সবারই মতো
তবে কেন এসব স্বীকারোক্তি শেষে
তোমাকে খানিক ভিন্ন ঠেকে?
এ এক অদ্ভুত দোলাচল।
ভেবেছি বহুকাল।
ভেবে ভেবে-
তোমার পায়ের আঙুলরেখায়
আছড়ে পড়েছে কতবার
উপলব্ধির ঢেউ,
সম্ভ্রম জল।
আসলে গোপন কথা তো এই
নিজেকে গুপ্ত রেখে
গড়েছ এক সাধককায়া
তাকেই শিল্পশীর্ষগামী করবে বলে
মেতেছিলে সুখনাশী এক খেলায়
দিকচিহ্নহীন
জানতে এই অবিরাম ঢেলে যাওয়া
তার কোনো প্রতিদান
আসবে না কোনোদিন
সেই প্রত্যাশাও ছিলো না হয়তো
এরপরও বুকের কোটরে
পরমধনের মতো
রেখেছো আগলে
তারই সৃষ্টি সকল
তুচ্ছ কিংবা মহৎ
জীবনদায়িনী তুমি
তোমাকে শুষে শুষে প্রাণবান
সৃজন করেছে
কত কত ঐশ্বর্যসম্ভার
আজ বুঝি,
তোমার আরাধ্য ছিল এই
শর্তহীন অবিরাম
দিয়ে যাবে প্রেম
একালের সান্দ্রতমারূপে।
আকাক্সক্ষারহিত ছিলে না বলে
শরবিদ্ধ করেছি তোমায়
হৃদয়দুয়ার খুলে তবে বলি
এই স্বপ্ন পায় যাকে
তাঁর কাছে বাকিসব
বড় তুচ্ছ, তুচ্ছ ঠেকে
তোমার এই ত্যাগ
ইতিহাস হবে না কোনোদিন
প্রাধান্যের নেপথ্যে পুড়ে
অঙ্গার হয়ে
নিয়ত জন্ম দিয়েছো পুণ্য
সেই পুণ্যের কাছে
সর্বলোকের আরাধ্যতম সম্পদ
ভীষণ ঠুনকো লাগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *