স্বপ্ন পুত্রের স্বপ্ন

গ্রাম থিয়েটার পত্রিকা – ৩৭ বর্ষ

আশ্বিন-কার্তিক ১৪২৬
OCTOBER 2019​

শিমূল ইউসুফ

সদ্যোজাত সন্তানটি সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হয়েছে। মায়ের গর্ভথলি ছিঁড়ে বেড়িয়ে এসেছে। কিন্তু সেই ছোট্ট বুকের শ সনালীতে শ^াস নেই। দু-একবার বুকটা ওঠানামা করলো, তারপর সব শেষ। ফুটফুটে সুন্দর একটি পুত্র। জন্মের পর কুড়িমিনিট বেঁচেছিল মাইনুল হাসান। পারুলভাবি ও সেলিমভাইয়ের একমাত্র সন্তান। পারুলভাবি অচেতনÑ জানতেও পারল না কী অসম্ভব দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য! সেলিমভাই হাসপাতালের বারান্দায় রেলিং ধরে উদাস তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। এরআগে আমি কখনো শিশুমৃত্যু দেখিনি। কেবিনের একটি স্টেনলেস ট্রেতে শিশুটিÑ মৃত। অচেতন পারুলভাবির চেতনা ফিরে আসার আগেই আমি ভাবলাম পালাতে হবে আমাকে। কিন্তু পা’দুটোতে মনে হয় শিকড় গজিয়ে গেছে। পাথর হয়ে গেছি আমি।

পালিয়ে কি বাঁচা যায়! যে সম্পর্ক একটি মৃত্যু শোকের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠে সেই সম্পর্ক যে কত গভীর, কত গাঢ় হতে পারেÑ তা আমি প্রতিনিয়ত বুঝেছিÑ আজও সেই শোক, সেই মৃত্যুকে বহন করে চলেছি। সাথে যোগ হয়েছে আরও দুটো নামÑ পারুলভাবি ও সেলিমভাই।

পারুলভাবির ধারণা ছিল মাইনুল হাসানের অকাল মৃত্যুর জন্য সেলিমভাই দায়ী। কারণ ডাক্তার বলেছিল পারুলভাবিকে প্রতিদিন বিকেলে একটু হাঁটাচলা করতে। যেহেতু তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ে থাকে তাই সেলিমভাই ডাক্তারের কথা মান্য করতে গিয়ে প্রতিদিন বিকেলে পারুলভাবিকে নিয়ে হাঁটতো। মাইনুল হাসানের জন্মের আগের দিন পারুলভাবির শরীরটা ভালো লাগছিল না। সেকথা সেলিমভাইকে বলেছিল ভাবি। কিন্তু সেলিমভাই ক্ষ্যাপাটে, সেলিমভাই বাউণ্ডুলে, এসবের মানেই বোঝেনি। ডাক্তার বলেছে হাঁটতে হবে, তাই হাঁটতেই হবে। সে বিকেলে আরো একটু বেশি করে হাঁটিয়েছিল পারুলভাবিকে। সেলিমভাইয়ের ধারণা ছিল অল্প হাঁটার কারণেই পারুলভাবির শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। সে রাতেই ভাবির শরীর খারাপ এবং প্রসব বেদনা ওঠে। মাত্র ৬মাস গর্ভে ধারণ করা শিশুটি অকাল প্রয়াত হয় পরদিন। আজ হলে সেই সন্তানকে হয়তো বা বাঁচানো যেতো। সে সময় আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল না, এমন কী অক্সিজেনের ব্যবস্থাও ছিল না সেই ছোট্ট প্রাণটিকে বাঁচানোর জন্য। কুড়ি মিনিটের আলো-বাতাস গায়ে মেখে চলে যায় মাইনুল হাসান, ফেলে যায় এক অমীমাংসিত দাম্পত্যজীবন। যা আর কখনোই স্বাভাবিক হয়নি।
নিঃসঙ্গ পারুলভাবির সঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় জায়নামাজের পাটি। ছাত্র-ছাত্রী পড়ানো আর সেলিমভাইয়ের লেখা যে কোনো কাগজ যত্ন করে তুলে রাখা। আমি বলতাম সেলিমভাইয়ের সংগ্রহশালা। কী ছিল না তার কাছে। চাইলে কী পাইনি তার কাছে? সেলিমভাইয়ের ফেলে দেয়া ছেঁড়া কাগজ, ম্যাচবক্স, সিগারেটের ফয়েলে আঁকা ছবি, পেপার কাটিং সব সব সংগ্রহ করতেন পারুলভাবি। মাঝে মাঝে মনে হতো সেলিমভাইয়ের শিশুসুলভ আচরণের কারণে পারুলভাবি তাকে সন্তানতুল্য আদর-¯েœহ দিয়ে বাঁধতে চাইতেন। কিন্তু সেলিমভাই তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। লিখতে বসলে দিন-রাতের হিসাব থাকতো না। বাজার করলে সমগ্র বাজারটাই কিনে নিয়ে আসতো। এবং তক্ষুণি ভাবিকে রান্না করে খাওয়াতে হবে। সেই সাথে যাকে সামনে পেতো তাকেই বাসায় খেতে বলতো। পারুলভাবি প্রায়শ আমাকে বলতেনÑ ‘তোর সেলিমভাইকে নিয়ে আর পারি না।’ মুখে এ কথা বললেও মনের ভেতর এক ধরনের প্রচ্ছন্ন মায়া-মমতা-আদর-ভালোবাসা জড়িয়ে থাকতো। এ কথা বলছি সেই সময়ের যে সময় পারুলভাবি আকাক্সক্ষা করেছিলেন আর একবার গর্ভে সন্তান ধারণ করবেন। কিন্তু সেলিমভাই কিছুতেই রাজি হয়নি। শুধু বলতেনÑ ‘ওর গর্ভে সন্তান ধারনের ক্ষমতা নেই। সে যতবারই চেষ্টা করুক, গর্ভপাত হবেই হবে। আমি এ কষ্ট আর দ্বিতীয়বার নিতে চাই না।’ আমি, বাচ্চু অনেক বুঝিয়েছি সেলিমভাইকে। কিন্তু সে আমাদের কথা শোনেনি। উল্টো বুঝিয়ে দিতো। যে সংসার ভাঙনের মুখে নিমজ্জিত হতে থাকে, সেখানে সহানুভূতির প্রয়োজন হয়। এই একটি কথা বার বার শোনার পর পারুলভাবির ভেতরেও একধরনের ক্ষোভ-অভিমান- বেদনার জন্ম হয়। বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো নিজেকে একটু একটু করে দূরে সরিয়ে নিতে থাকেন ভাবি। মনে হয় খুব অপমানিত বোধ করেছিলেন ভাবি। এবং এ অপমানকে তিনি আমৃত্যু সহজভাবে নেননি। নিজের গৃহে সন্ন্যাস জীবন বেছে নেন ভাবি। এবং এই সুযোগের হাতছাড়া করেনি কেউ। তাদের কথা বলছি যারা সেলিমভাইয়ের অতি ঘনিষ্ঠ মানুষ ছিল তাদের কথা। পারুলভাবি এবং সেলিমভাইয়ের সংসার সংসার খেলা একটা প্রহসন মাত্র। সেলিমভাইকে কী করে ভাবির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিল তারা সেটাও দেখেছি। জানি, সেলিমভাইয়ের মৃত্যুর কারণ কী ছিল।

পারুলভাবি বুঝে গিয়েছিলেন, সেলিম আল দীন আর তার একার একান্ত কাছের মানুষ নয়। তিনি সবার। তিনি আর পারুলভাবির একান্ত আপন মানুষ হয়ে ফিরবেন না। কিন্তু তবুও তো বাঁচতে হবে। তাই শেষ চেষ্টা, শেষ অবলম্বন পারুলভাবির বোনের মেয়ে অন্বিতা। ছোট্ট অন্বিতাকে নিজের আপন কন্যা হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধা করেননি সেলিমভাই। তখন দেখেছি দুজনের মধ্যেই সন্তানের আকাক্সক্ষা কী তীব্র কী অসামান্য। অন্বিতাকে ঘিরে জোড়াতালির সংসারে যেন বা একটু প্রাণ ফিরে এল। কিন্তু হায়, কী ভবিতব্য! সেই ছোট্ট অন্বিতার রক্তে কর্কট রোগ বাসা বেঁধেছে। আবার দিগ্ভ্রান্ত নৌকার দুই মাঝি দুই দিকে ছিটকে গেল। পারুলভাবি প্রায় উন্মাদের মতো আচরণ শুরু করলেন। আর সেলিমভাই অন্বিতার মৃত্যু দেখার আগে নিজেই নিজের মৃত্যু চাইলেন ঈশ^রের কাছে। পারুলভাবির হাহাকার চিৎকার কান্না কোনোকিছুই ঈশ^রের কাছে পৌঁছালো না। শুধু পৌঁছালো সেলিম আল দীনের ইচ্ছামৃত্যুর আকাক্সক্ষা।

অপূর্ব সুন্দর পারুলভাবি, অসাধারণ রাঁধুনী। পারুলভাবি যাঁর মমতায় জড়ানো সেলিমভাইয়ের সমগ্র বিশ^ব্রহ্মাÐÑ এসে স্থির হল নামাজের পাটিতে। যা কিছু সঞ্চয় ছিল সব শেষ হল অন্বিতার চিকিৎসায়। নিঃস থেকে নিঃস্বতর হল ভাবি এবং সেলিমভাই। আর সেলিমভাইয়ের মৃত্যুর পর ভাবি নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ একা হয়ে গেলেন। সেলিমভাই চলে যাওয়ার পরও অন্বিতা বেঁচে ছিল প্রায় দেড়মাস। ফেব্রæয়ারির ২৯ তারিখে অন্বিতা চলে যায় অনন্তলোকে, সেলিমভাইয়ের কাছে। ঈশ^রের লীলা বোঝা যায় না।

আজ কেন লিখছি এইসব? কী হবে আর লিখে? অন্বিতার জন্য কষ্ট শুধু পারুলভাবির ছিল না। আমি সেলিমভাইকেও দেখেছি, দিনের পর দিন কীভাবে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করেছে। সেলিমভাইয়ের সেই চিৎকার করে কান্না আমার বাসার সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় সেই আহাজারি কী করে ভুলি? ডিসেম্বরের ১২ তারিখ শেষ বারের মতো এসেছিলেন সেলিমভাই। উদভ্রান্ত দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য পাগলপ্রায় একটি কথা মুখেÑ ‘অন্বিতা আর বাঁচবে না শিমূল। আমি অন্বিতার মৃত্যু দেখতে পারবো না। আমি নিজেকে খুন করে ফেলবো।’ তাই হল জানুয়ারির ১৪ তারিখ। চলে গেলেন সেলিমভাই এ জন্মের মতো।

আর পারুলভাবি? মুখোমুখি দাঁড়াতে পারিনি তার আমি। যে মানুষটা চিরকাল আমাকে তার ছোট্টবোন হিসেবে ¯েœহ-আদর-ভালোবাসা দিয়েছেন তাঁর মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম। সেলিমভাই চলে যাওয়ার পর তাকে দাফন করে আসলাম যেদিন, সেদিন থেকে আর কোনোদিন সেলিমভাইয়ের বাসায় যাইনি। পারুলভাবি দেখা হলেই বলতেন- ‘আসিস না ক্যান শিমূল।’ আমি চুপ করে থাকতাম। কেন যাইনি তার উত্তর শুধু আমার মন জানে। তবুও বলতেন, ‘ তোর সেলিমভাই নাই। কিন্তু আমার জন্য হলেও তো যেতে পারিস।’ আমি ছোট্ট করে বলতাম, ‘যাবো’। কিন্তু যাওয়া আর হয়নি।

যাওয়া হয়নি আর কোনোদিন, এমন কী ভাবির মৃত্যুর পরও। সকালে খবর পেয়ে রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গেলাম। তখন শারীরিকভাবে আমিও খুব অসুস্থ। ডাক্তারের নিষেধ অমান্য করে হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু সাভার আর যাওয়া হয়নি।

প্রতিবার সেলিম আল দীন জন্মোৎসব কিংবা স্মরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা থিয়েটার আয়োজন করে নাট্য বিষয়ক একটি সেমিনারের। শত কষ্ট সহ্য করে পারুলভাবি আসতেন সাভার থেকে। সেমিনার কক্ষে বসতেন আমার বাঁ পাশের চেয়ারটায়। সেই সেমিনারকক্ষের বাঁ দিকের চেয়ারটা! পারুলভাবিহীন প্রথমবার কেউ বসেনি। আর আমি বারবার পারুলভাবির সঙ্গে কথা বলার জন্য বাঁ দিকে ফিরতেই দেখলাম শূন্য, সবকিছু শূন্য। এতো শূন্যতা নিয়ে মানুষ বাঁচে কী করে? ডান হাতটিতো আগেই অথর্ব করে দিয়েছিলেন সেলিমভাই। এবার বাঁ হাতটিও গেল।

পারুলভাবি ঢাকায় আসতেন। নিয়মিত আমাদের শো দেখতেন। সেটা যেমন মুখ্য ছিল, ঠিক তেমনিভাবেই মুখ্য ছিল আমার সঙ্গে কথা বলাও। তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া নানা সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্না-অপমান-অবহেলা-বঞ্চনা-লাঞ্ছনার কথা বলতেন আমাকে অকপটে। সেই কথাগুলো আর কখনোই কেউ জানবে না আমি ছাড়া। আর আমার মৃত্যুর সাথে সাথে সেগুলোরও দাফন হয়ে যাবে। আজ আর স্বীকার করতে বাধা নেই অনেক সময় আমিও তাঁকে ভুল বুঝেছি। তাঁর প্রতি অন্যায় করেছি। তাঁর অভিমানের জায়গাটা আমি কখনো গুরুত্ব দিয়ে দেখিনি, যতটা দেয়া উচিৎ ছিল। আমি পারুলভাবির একাকীত্ব বুঝতে পারতাম কিন্তু কোনো সমাধান দিতে পারিনি। নিঃসন্তান নন তিনি। সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। সেই হাহাকার সেই ক্রন্দন-রোদন একটু বুঝেছিলাম আমাদের প্রথম সন্তানটির অকাল গর্ভপাতে। কিন্তু তারপর আমার কোলজুড়ে এলো কন্যা এশামনি। সে হয়ে উঠলো আমাদের চারজনের সন্তান। এশাকে প্রথম উলের সোয়েটার বুনে দিয়েছিলেন পারুলভাবি। সেলিমভাই দিয়েছিলেন অক্ষরজ্ঞান হাতেখড়ি।

মনে পড়ে সেলিমভাই চলে যাওয়ার পর আমার নির্দেশনার প্রথম নাটক ধাবমান এর কথা। প্রথম প্রদর্শনীর পর সাজঘরে আমরা যখন সবাই একে-অন্যকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছি তখন দরজার সামনে পারুলভাবি দাঁড়িয়ে আছেন। আমি দৌড়ে গেলাম তার কাছে। ‘ভাবি কিছু হয় নাই না? একদম ভালো হয় নাই না?’ ভাবি আমাকে বুকের ভেতর টেনে নিয়ে বললেন, ‘আজকে তোর সেলিমভাইয়ের বেঁচে থাকার দরকার ছিল। তাঁর হাতের ছায়ায় বেড়ে ওঠা শিমূল সত্যিই বড় হয়ে গেছে।’ কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, ‘এতোবেশি বুঝিস না তোর সেলিমভাইকে। বুঝতে গেলেই কষ্ট পাবি।’ তারপর ওই বুকের ভেতর আমি ছোট্ট শিমূল হয়ে গেলাম।

পারুলভাবি সেলিমভাইকে আপাদমস্তক বুঝতেন। শুধু প্রকাশের ভাষা ভিন্ন ছিল। আর সেলিমভাই? ভাবিকে পাঠ করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু ভুল ব্যাখ্যায়। সেলিমভাই একতরফা নিজেকে একাই নিঃসন্তান ভাবতেন। এই সন্তানহীনতার পিছনে যে তাঁরও হাত আছে সেটা তিনি জানতেন কিন্তু মানতেন না।

পুত্র নাটকটি প্রথম পাঠ করি যখন, তখন মনে হয়েছিল এ নাটক তাদের দুজনের উদ্দেশে লেখা। সেলিমভাইকে একটু রেগেই জিজ্ঞেস করেছিলাম. ‘পুত্র কী একটু অন্যভাবে লিখা যেতো না?’ সেলিমভাই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘নাটক তো জীবনের কথাই বলে। অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা যা বর্তমান ও ভবিষ্যতেও প্রযোজ্য, সেই কথাই তো বলে। আর আমি তো এতোকিছু ভেবে লিখিনি। কলমের ভেতর দিয়ে যা বেড়িয়ে এসেছে তাই সত্যি। এই সত্যিকে নিয়ে এতো ভাবার কিছু নেই।’ পারুলভাবিও পুত্র নাটকটিকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। সেই পুত্র নাটকটি আমি নির্দেশনা দিয়েছি। দীর্ঘ দীর্ঘ সময় লেগেছে। মঞ্চায়ন তো দূরের কথা, মঞ্চপাÐুলিপিই তৈরি করতে পারছিলাম না। পুত্রকে কোলে নিয়ে বসে থাকতাম। মনে হতো কোনোভাবেই এ নাটকের সুরাহা করতে পারবো না। জানি না এর নেপথ্য কাহিনি কী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *